my blog

ওমেগা পয়েন্ট নিরাময় কেন্দ্র হিসেবে সু- পরিচিত। দীর্ঘ তেরো বছর চিকিৎসা সেবা সফলতার সহিত দিয়ে আসছে।

ওমেগা পয়েন্ট মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

২২ ফেব্রুয়ারি, মিরপুর, ঢাকা।


নিজেকে ভালোবাসুন, আত্মবিশ্বাসী হোন

মানুষ পৃথিবীতে যে কাজই করুক না কেন- তার পিছনে মূল সত‍্যিটা হলো- সুখ ও শান্তি আহরন করা। সব মানুষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ‍্য সুখে থাকা এবং এই সুখের একটা নিজস্ব বলয় তৈরি করে শান্তিতে জীবন যাপন করা। এই সুখে থাকার জন্য, আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার জন্য জরুরী বিষয় হলো- নিজেকে ভালোবাসা। নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়লে আত্মবিশ্বাস, মনোবল এবং মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে জীবনটাকে অনেক বেশি সহজ ও সুন্দর মনে হয়। অনেক সময় অনেক ছোট কোনো ভুলের জন্যও মানুষ নিজের উপর থেকে ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে। আবার অন্যের কোনও বিপদের জন্য নিজেকে দোষারোপ করে পুরো জীবন পার করে দেয় কেউ কেউ। এমন ও দেখা যায়, নিজের প্রতি ভালোবাসার সামান্য ঘাটতি হলেও জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এসে পড়ে। আর তাই নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তোলা খুবই জরুরী। আজ এ কথাগুলো দিয়েই motivational session টি শুরু করলেন পরিচালক Shahnaz Ahmed তিনি বলেন, আত্মবিশ্বাস হলো সাফল্যের চাবিকাঠি। তবে সকলেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে জন্মায় না এবং সবার আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ ভঙ্গিও এক নয়। কিন্তূ কিছু পরিবর্তনের মাধ‍্যমে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলে- নিজেকে ভালবাসার কিছু সুন্দর মন্ত্র- ফেলো বন্ধুদের সামনে মেলে ধরেন। তাহলো-

● নিজেকে ক্ষমা করে দিন:
———————————

মানুষের জীবনে ছোটখাটো ভুল হতেই পারে। এই ছোট খাটো ভুল এর কারণে সব সময় নিজেকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আর এই ভুল যে কারোরই হতে পারে। তাই নিজের ভুলের জন্য সারাক্ষণ নিজেকে দোষারোপ না করে ক্ষমা করে দিন নিজেকে।

● নিজেকে বলুন ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি:
———————————————————

’না প্রিয়তম কিংবা প্রিয়তমাকে নয়, এবার নিজেকেই বলুন ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’! প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রেমে পড়ুন। নিজের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুন প্রতিদিন। তাহলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

● নিজেকে অগ্রাধিকার দিন:
———————————–

সব কাজেই নিজেকে অগ্রাধিকার দিন। কী করলে নিজের ক্ষতি হতে পারে কিংবা কী করলে নিজের ভালো হবে চিন্তা করুন। অন্যের ফাঁদে পা দিয়ে কখনো নিজের ক্ষতি করবেন না। নিজের ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও মতামতকে অগ্রাধিকার দেয়ার চেষ্টা করুন সবসময়।

● নিজের পছন্দের কাজ করুন প্রতিদিন:
—————————————————-

প্রতিদিন একটি করে হলেও নিজের পছন্দের কাজ করুন। আপনার শখ যদি রান্না হয় তাহলে প্রতিদিন খুব সহজ কিছু হলেও রাঁধতে পারেন। ছবি আঁকার শখ থাকলে রঙ তুলি নিয়ে বসে পড়ুন যখন তখন। প্রতিদিন নিজের পছন্দের কাজ করলে মন ভালো থাকে এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়ে।

● নেতিবাচক প্রভাবমুক্ত থাকুন:
—————————————

কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের দোষ নিয়ে খোঁচা দিতে ভালোবাসে। আপনার পাশের মানুষ যারা অহেতুক সারাক্ষণ আপনার দোষ ধরে এবং আপনাকে ছোট করে তাদেরকে এড়িয়ে চলুন। এধরণের মানুষ নিজের প্রতি ভালোবাসা কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।

● নিজের ইতিবাচক গুনগুলো খুঁজুন:
———————————————–

সব সময় নিজের ভালো দিক গুলো খুঁজে বের করুন। নিজের এই সমস্যা, ওই সমস্যা চিন্তা করা বাদ দিন। ভেবে দেখুন আপনার কী কী ইতিবাচক গুন আছে যা মানুষের কাছে প্রশংসিত। প্রতিনিয়ত নিজের ইতিবাচক গুনগুলো খুঁজলে নিজের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

সাহনাজ বলেন, প্রতিটি মানুষের ভেতরে একটা নিজস্ব শক্তি আছে। সাফল্য লাভের জন‍্য লুকিয়ে থাকা সেই ভেতরের শক্তিটাকে খুঁজে বের করে, নিজের মনকে ভালো করে বুঝতে হবে এবং নিজের মত করে জীবন কাটানোর জন‍্য নিজেকে ভালবাসা সবচেয়ে জরুরী।নিজের স্বপ্নকে সার্থক করার মাধ‍্যমে মানসিক শান্তি লাভের জন‍্য- নিজেকে ভালোবাসাই হলো সবদিক থেকে সমৃদ্ধ হবার মূলমন্ত্র।

সবশেষে, সকলেই নিজেকে আবারও নতুনভাবে, নতুন প্রত‍্যয়ে,নতুন উদ‍্যোমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজেকে ভালবাসার প্রতিশ্রুতি দেয়। ধন্যবাদ সুন্দর ক্লাশের জন‍্য

ওমেগা পয়েন্ট মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

২৫ জানুয়ারি, শনিবার, মিরপুর-১, ঢাকা।

জীবনে লক্ষ‍্য নির্ধারণ

দীর্ঘদিন মাদক সেবনের ফলে একজন মাদকাসক্ত ব‍্যক্তি জীবনের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে এবং লক্ষহীন হয়ে একই আবর্তে ঘুরপাক খেতে শুরু করে। যেমন মাঝিহীন নৌকা কেবল যত্রতত্র ঘুরতে থাকে দিকচিন্হহীন। একসময় হয়তো নৌকাটি কোথাও বাঁধাগ্রস্থ হয়ে আটকে থাকবে অথবা জল ঢুকে ঢুকে নৌকাটি ডুবে যাবে। অথবা স্রোতের উপর ভর করে কেবল উদ্দেশ‍্যহীন ঘুরতেই থাকবে।

তেমনি শুধু আসক্ত ব‍্যক্তি নয়, লক্ষহীন প্রতিটি মানুষের জীবনে এক সময় নেমে আসে চরম হতাশা। ধীরে ধীরে তা পরিনত হয় বিতৃষ্ণায়, বেঁচে থাকার প্রতি। সেই জন‍্য জীবনের নিশানা ঠিক করতে লক্ষ‍্য স্থির করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। লক্ষ‍্য হচ্ছে জীবনে সামনে যাবার সোপান। একাগ্রতার বৈঠা বেয়ে ধৈর্য সহকারে একটু একটু করে সামনে এগিয়ে গেলে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

ওমেগা পয়েন্ট এর পরিচালক Shahnaz Ahmed- এ কথাগুলোই বিভিন্ন গল্প উদাহারন দিয়ে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেন। ফেলো বন্ধুরাও গভীর মনযোগ দিয়ে উপলব্ধি করে পুরো ক্লাশ সেশনটি। সুন্দর একটা কথা বলেন তিনি, যা মনে রাখার মতো– লক্ষ‍্যহীন মানুষ কখনো লক্ষ‍্যভ্রষ্ট হয়না। ভালো তীরন্দাজ না হলেও- লক্ষ‍্য যদি থাকে গাছের আগায়, নাহলেও অন্তত গাছের মাঝ বরাবর বিদ্ধ হবে।

তিনি আরো বলেন, লক্ষ‍্য বিক্ষিপ্ত বা এলোমেলো হলে তা লক্ষ‍্য হবে না। লক্ষ‍্য হতে হবে সুনির্দিষ্ট এবং লক্ষ‍্য স্থির করার সময় অবস্থান অনুযায়ী গুনগত মান বিবেচনায় রাখতে হবে। লক্ষ‍্য অসীম হলে চলবেনা। লক্ষ‍্যর একটা সময়সীমা থাকতে হবে। উদাহারন হিসাবে তিনি বলেন, যদি কেউ ওজন কমাতে মনস্থির করে তা হবে তার ইচ্ছা। আর এই ইচ্ছাকে লক্ষ‍্যে পরিনত করতে চাইলে তাকে ওজন কমানোর জন‍্য যা যা করনীয় সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে এবং একটা সময়সীমার মধ‍্যে লক্ষ‍্যকে আটকাতে হবে যে, আমি ত্রিশ দিনে পাঁচ কেজি ওজন কমাবো অথবা খাওয়া ছেড়ে দিবো। এরকম মনোভাব অবশ‍্যই ফলপ্রসূ হবে এ ব‍্যাপারে তার জোরালো মত পোষন করেন।

সবশেষে সাহনাজ হঠাৎ রুমের চারপাশে দিকে তাকিয়ে বলেন, লক্ষ্যের দৃঢ়তার কারনে মানুষ সীমাবদ্ধতাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে- যা কিনা সফল হতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, এইরুমের ভেতরে যাযা আছে, সেগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারলে, সীমাবদ্ধ এই রুমের ভেতর থেকেই সীমাহীন আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হবেন। যেমন:
১. ছাদ বলে- লক্ষ‍্যটাকে উঁচু করো।
২. ফ‍্যান বলে- সবসময় ঠান্ডা অর্থাৎ শান্ত থাকো।
৩. ঘড়ি বলে- এক মিনিট সময় ও নষ্ট করো না।
৪. আয়না বলে- কোন কাজের পূর্বে নিজের যোগ‍্যতাকে যাচাই করে দেখো।
৫. জানালা বলে- মনটাকে উদার করো।
৬. ক‍্যালেন্ডার বলে- যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলো
৭. দরজা বলে- অবারিত পৃথিবী কে দেখো।

ফেলো বন্ধুরাও লক্ষ‍্যের ব‍্যাপারে তাদের ভুলগুলো অনুধাবন করে এবং এখান থেকেই লক্ষ‍্য স্থির করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত‍্যয় ব‍্যক্ত করে।

ধন‍্যবাদ ফেলো বন্ধুদের পক্ষ থেকে সাহনাজ আপাকে সুন্দর শিক্ষনীয় এবং উপভোগ‍্য ক্লাশ সেশনটির জন‍্য।

ওমেগা পয়েন্ট মাদক নিরাময় কেন্দ্র

১১ জানুয়ারি,শনিবার, মিরপুর, ঢাকা।

…………………………………………………….
নিজের ভাগ‍্য নিজে গড়ুন
ইতিবাচক দৃষ্টি দিয়ে নিজের মনকে পড়ুন
…………………………………………………….

মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল‍্যবান যে বিষয়টি সে কাউকে দিতে পারেনা- তা হলো মন। এই মনের কারনে মানুষ ভয় পায়, শঙ্কায় থাকে- আবার মনের কারনেই মানুষ ভয়কে জয় করে নিজের ভাগ‍্য নিজেই পরিবর্তন করতে পারে। জঙ্গলে হঠাৎ করে কোন হিংস্র প্রানীর সম্মুখীন হলে- মনই বলে দিবে তাৎক্ষনিক তাকে আশ্রয় বা আত্মরক্ষার জন‍্য কি করতে হবে। আত্ববিশ্বাসী মন- মানুষের মধ্যে অবস্থিত ভয়রূপী শয়তানকে বধ করতে পারে। অতীতের ভুল বা বিপর্যয়কে ভয় না করে, ইচ্ছা শক্তির দৃঢ়তা দিয়ে বর্তমান সময়ের সঠিক ও যথাযথ প্রয়োগ এর মাধ‍্যমে ভবিষ‍্যতের বীজ রোপন করাই হলো একজন সফল মানুষের মূল চাবিকাঠি।

ওমেগা’র পরিচালক shahnaz ahmed আপা উপরের কথাগুলো বললেন, নিজের ভাগ‍্য গড়ে তুলতে মনের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে। তিনি আরো বলেন, মন হলো বিশাল এক সমুদ্রের মত। সমুদ্রে এক ফোঁটা ময়লা পানি যেমন সমগ্র সমুদ্রের পানিকে কলুষিত করতে পারেনা, তেমন কোন ভুল, বিপর্যয়, হতাশা,শঙ্কা মানুষের বিশাল মনুষত‍্যকে নষ্ট করতে পারেনা। ভুল মানুষ ই করে এবং ভুলের ভেতর থেকে ফুলের সৌরভ মানুষ ই খুঁজে নিতে সক্ষম হয়। মনে রাখতে হবে- ভুল করা বা পড়ে যাওয়াটা একটি দুর্ঘটনা, কিন্তূওঠার চেষ্টা না করে পড়ে থাকাটা একটা বোকামী। এক্ষেত্রে নিজের মনকে প্রাধান্য দিতে হবে যে আমি বদলাবো কি না।

আর একটা বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখার কথা বলেন, তা হলো- ১ তোলা চর্চা, ১ টন কল্পনার থেকে মূল‍্যবান। উদাহারন দিতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, যদি কোন ব‍্যক্তি সাঁতার শেখার সহজ উপায় একটি বই প্রতিদিন পড়েন, কিন্তূ পানিতে নেমে অনুশীলন করে না। এতে করে ঐ ব‍্যক্তি জীবনেও সাঁতার শিখতে পারবে কি ?

এক পর্যায়ে সাহনাজ, ফেলো বন্ধুদের কাছ থেকে এক এক করে মতামত জানতে চান যে- মন যদি বিক্ষিপ্ত বা নেতিবাচক কাজে প্ররোচিত করে তখন কিভাবে মনকে প্রশমিত করতে হবে ? সবাই ইতিবাচকভাবে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ‍্যম মনকে কোন ভালো কাজে মনোনিবেশ করার কথা ব‍্যক্ত করে।

পরিশেষে তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের জীবনের উদ্দেশ‍্যকে খোলাসা করে ফেলি, তখন আসক্তি সমূহের ও পরিশোধন ঘটে, নতুন আসক্তির জন্ম নেয় আমাদের মনে এবং পরিস্কার লক্ষ‍্য আমাদের কর্ম প্রচেষ্টাকে কেন্দ্রীভূত করতে- নিজের ভাগ‍্য নিজে গড়তে সাহায‍্য করে। তাই মনকে জানুন, মনকে পড়ুন।

ওমেগা পয়েন্ট মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

২৮ ডিসেম্বর, শনিবার, মিরপুর-১, ঢাকা।

আজ ছিল ২০১৯ এর শেষ শনিবার‌। তাই informaly Shahnaz Ahmed সেশন শুরু করেন একটু অন‍্যভাবে সবার কাছ থেকে জানতে চান শেষ হয়ে যাওয়া বছরে হারানোর পাল্লা বেশি না প্রাপ্তির পাল্লা ভাড়ি? সিংহভাগের অনুভূতিতেই হারানোর বেদনা বেশী ফুটে উঠেছে। তারা মনে করে, মাদকাসক্তির কারনে তাদের জীবন থেকে সুন্দর সময়, পারিবারিক বন্ধনের আনন্দ, ব‍্যাক্তি জীবনে কর্ম স্পৃহা, ক‍্যারিয়ারে সফলতা ইত‍্যাদি বিষয়গুলো, এমন কি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এবং ভালাবাসাটাও নষ্ট হয়ে গেছে- হারিয়ে গেছে। তবে পাশাপাশি এও বলছে যে- সেন্টারে আসার পর তাদের প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে নতুন করে বেঁচে থাকার আনন্দ। জীবনের উৎসবে ফিরে যাওয়ার অদম‍্য ইচ্ছা। জীবনকে নতুন রূপে ঢেলে সাজানোর স্বপ্ন- আশা।

এ বিষয়ে সাহনাজ আপা একটা গল্প বলেন, তাহলো- একটি ঘরে চারটি মোমবাতি জ্বলছিল। হঠাৎ প্রথম মোমবাতি টি নিভে গেল এবং বললো, “আমি শান্তি”- বেশিক্ষন থাকিনা। তখন দ্বিতীয় মোমবাতি টিও নিভে গেল এবং বললো- “আমি বিশ্বাস”- যেখানে শান্তি নাই, সেখানে আমি থাকতে পারিনা। এবার তৃতীয় মোমবাতি টি বললো- “আমি ভালোবাসা”- যেখানে শান্তি আর বিশ্বাস থাকেনা, সেখানে আমিও থাকিনা। এই বলে নিভে গেল। তখন একটি বাচ্চা ছেলে ঘরটিতে প্রবেশ করলো এবং দেখলো চতুর্থ মোমবাতি টি মিটমিট করে জ্বলছিল… তখন বাচ্চা টি জিগেস ক‍রলো “তুমি কেন জ্বলছো, তুমিওতো নিভে যেতে পারতে”। তখন চতুর্থ মোমবাতি টি বললো, “আমি আশা”- আমি সবসময় থাকি। এখন তুমি চাইলে আমাকে দিয়ে এই তিনটিকে আবার জ্বালিয়ে দিতে পারো। গল্প শেষে তিনি বলেন,।পেছনের সব ভুলগুলো জড়ো করে পিছনে ফেলে দিয়ে- আপনাদেরকেও ঘুড়ে দাঁড়াতে হবে এবং হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস, ভালোবাসা, জীবন বোধ পুনরুদ্ধার করে- ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষনের মাধ‍্যমে জীবনের উৎসবে শামিল হতে হবে- আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে।

আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, জন্ম এবং মৃত্যুর মাঝের সময়টাই জীবন। আর এই জীবন পায় মানুষ একবারই। তো এই জীবনের একটা মানে আছে। বুঝতে হবে সামগ্রিকতার অংশ হিসাবে আমার জন্মের একটি কারন আছে। যার যার অবস্থান থেকে সেই কারনটা অনুধাবন করতে হবে- ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’র পোষনের মাধ‍্যমে সফলতার হাত ধরে ‘জীবনতরী’ বাইতে হবে পৌঁছাতে হবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি দর্শন যা প্রতিটি অবস্থা, পরিস্থিতি বা ঘটনা থেকে আশাবাদী দিক চিন্তা করতে পরামর্শ দেয় এবং এই দিক নিয়ে সাফল্য অর্জনের পথে পরিচালিত হতে তাড়া দেয়। প্রতিটি বাধা, বিপত্তি বা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, নিজের আকাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়ার জন্য অবিরত অধ্যবসায় চালিয়ে নেওয়ার প্রতি ইতিবাচক মানসিক ভঙ্গি অণুপ্রেরণা দিয়ে যায়। ইতিবাচক মানসিক ভঙ্গি গঠনের জন্য আশাবাদ এবং প্রত্যাশা অত্যন্ত জরুরী।

অতএব, আর হতাশা নয়।।আসছে বছরে সবার। একটাই অঙ্গীকার হোক- মাদকমুক্ত সুস্থ স্বাভাবিক জীবন। সবাই এ বিষয়ে দৃঢ় প্রত‍্যয় ব‍্যক্ত করে।